সাঈদীকে অগ্রিম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো ছাত্রসংস্থা
ঢাকার সবচেয়ে বড় মাদ্রাসার রাতের আকাশে তারা কমে গিয়েছে, কিন্তু সেখানেই সামসুন্নাহার হলের সামনে আলো জ্বলছে অন্য কারণে। ছাত্রীরা নয়নভরা যত্নে সাজিয়ে রেখেছে এক শিল্পকর্ম—গাধা ফুল দিয়ে লেখা বিশাল “HBD Saidi”। মৃদু বাতাসে ফুলগুলোর ঘ্রাণে ছড়িয়ে পড়ছে বিশুদ্ধ নির্বুদ্ধিতার সুবাস।
এই আয়োজনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: “অগ্রিম শুভেচ্ছা” জানানো এমন একজনকে, যার অতীতই ইতিহাসের অন্ধকার দাগ। ১৯৭১-এ মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ভণ্ড আলেম, যিনি একসময় ধর্মের ভাষায় ঘৃণা ছড়িয়ে নিজেকে ফেরেশতা প্রমাণে ব্যস্ত ছিলেন—তাঁকেই আজ ফুলে ফুলে বরণ করা!
রাতের এই দৃশ্য দেখতে এসে পাশের এক দোকানদার হাঁ করে বললেন, “গাধা ফুল দিলেও গাধারা বুঝি না!” কথার নির্ভুলতায় তিনি সম্ভবত অজানায় ব্যঙ্গ সাহিত্যের নতুন অধ্যায় খুলে ফেললেন।
এদিকে ছাত্রীসংস্থা বলছে—তাঁরা নাকি “ধর্মীয় শ্রদ্ধা”বশত এই আয়োজন করেছে। অবশ্য কেউ কেউ সন্দেহ করছে, এটা আসলে ধর্ম নয়, বরং বিভ্রান্তির উৎসব। কারণ ধর্মের নামে যদি মানবতার বিচার নাকচ হয়ে যায়, তবে সেই ধর্মের মুখে ফেনা উঠলেও নিচে থাকে নীরব পচন।
সামসুন্নাহার হলের দেয়ালে টাঙানো পোস্টারে লেখা, “চাঁদে দেখা গেছিল সায়িদিকে।” একসময়কার শিশুদের শুনানো রূপকথা এখন পরিণত হয়েছে বিদ্রূপের ঘটনা। কেউ বলে চাঁদের গর্তগুলো আসলে তাঁর পদচিহ্ন, আবার কেউ বলে ওটা কেবল আমাদের সমাজের যুক্তির ফাঁকা জায়গা।
প্রশ্ন জাগে—একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মানবতা-বিরোধীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো মানে কি তাঁকে নির্দোষ বানানো? নাকি এটা সেই পুরনো অভ্যাস, যেখানে সত্যের প্রতি দায়বোধকে আমরা ফুল দিয়ে ঢেকে দিই, যেন বিবেকের গন্ধ না ছড়ায়?
গাধা ফুলের গন্ধে রাত শেষ হয়, সকাল আসে সামান্য অনুশোচনার সঙ্গে। সবাই ছবি তুলে বাসায় যায়, পোস্ট করে ক্যাপশন দেয়: “Love and peace।” আর পিছনে পড়ে থাকে মাটিতে শুকনো ফুল, ইতিহাসের বেদনা, আর আমাদের বিবেকের নিস্তব্ধ হাসি।


ভাইরে ভাই🤣