বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ফিরে আসা বুঝি মানুষের আচরণ দিয়েই টের পাওয়া যায়—কখনো ফুলের মালা, কখনো বুটের ছাপ, আর কখনো সরাসরি জুতার মালা! সর্বশেষ এই ঐতিহ্যে যোগ হলো নতুন অধ্যায়—ফুয়াদের প্রত্যাবর্তন।
বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এই স্থানীয় ‘জনপ্রতিনিধি’ বেশ কিছুদিন উধাও থাকার পর এলাকায় প্রবেশ করতেই নাগরিকদের মুখভরা হাসি আর হাতে ঝুলছে বহু রঙের জুতার মালা। মঞ্চে তাঁর প্রথম অভিবাদনের সময়েই এক দোকানি চেঁচিয়ে বলল,
“ভাই, আপনার মাপে সব মডেলই আছে—বাটা থেকে শুরু করে বেল্টোরি!”
দৃশ্যটি এমন ছিল যে ফুলের গন্ধের বদলে চামড়ার সুবাসে ভরে গেল বাতাস। কেউ ভিডিও করছে, কেউ গুনছে—এক জোড়া নয়, দুই নয়, মোটে ১৪ জোড়া জুতা একত্রে মালায় গাঁথা।
এলাকাবাসীর বক্তব্য স্পষ্ট, “আমরা ফুল দিতে দিতে ক্লান্ত হয়েছি, এখন একটু ব্যবহারিক সম্মান।” কেউ ব্যঙ্গ করে বলল, “এই মালাটা কম খরচে হয়, আবার পরেও ব্যবহার করা যায়।”
মজার ব্যাপার হলো, ফুয়াদ সাহেব প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি কোনো নতুন ‘ফ্যাশন ট্রেন্ড’—তিনি হাসিমুখেই মালা গ্রহণ করেন! পরে যখন জনতার শ্লোগান ওঠে “জুতা ভাই জিন্দাবাদ!” তখনই বুঝলেন ফুল আর ফিউরি–র পার্থক্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই ব্যঙ্গময় বরণ আয়োজনে শত শত মিম। কেউ লিখেছে, “এলাকাবাসীর ভালোবাসা যখন পা ছাড়িয়ে মাথায় ওঠে, তখনই তাকে গণসম্মান বলে।” আরেকজন টুইট করেছেন, “জুতার মালা—দুর্নীতির জন্য দেশের অফিশিয়াল ইউনিফর্ম।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গণ-অভ্যর্থনার ধরন থেকেই বোঝা যায়, মানুষের হতাশা কতটা বাস্তব। এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “যেখানে গণতন্ত্রের ভাষা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেখানে জুতাই এখন জনতার মাইক্রোফোন।”
এদিকে ফুয়াদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি ঘটনাটিকে নেতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না। তাঁর নাকি মন্তব্য—
“জনগণ আমাকে ভালোবেসেই জুতা দিয়েছে, না হলে একটার বদলে অনেকগুলো কিনত না।”
সব শেষে এক বৃদ্ধ রিকশাচালকের পর্যবেক্ষণই যেন পুরো দৃশ্যের সারাংশ:
“ওরা ফুল চায়, আমরা আশা চেয়েছিলাম—পেলাম দুইটাতেই ধুলা।”

