৩১% অসন্তুষ্ট জনগণের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্রেস সচিব

৩১% অসন্তুষ্ট জনগণের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্রেস সচিব

৩১% অসন্তুষ্ট জনগণের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা: হাসির রিঅ্যাকশনে কাঁপছে গণতন্ত্রের ওয়াইফাই সংযোগ

দেশে এখন এমন এক সময় চলছে, যখন আন্তর্জাতিক সমীক্ষাও হয়ে উঠেছে রাজনীতির অস্ত্র, আর সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়াই আসল মাঠের জনতা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণা সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে—বাংলাদেশে নাকি ৬৯% মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। আর বাকি ৩১%? তারা অসন্তুষ্ট, আর এই পরিসংখ্যানেই প্রেস সচিবের প্রেস কনফারেন্স যেন পরিণত হলো যুদ্ধ ঘোষণায়!

সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব গম্ভীর মুখে বললেন,

“আমরা ৬৯% জনগণের কণ্ঠস্বর। যারা বাকি ৩১%, তাদের মিথ্যা প্রচারণা রুখতেই আমাদের রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু হবে। তারা জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে—আমরা থামব না।”

এই বক্তব্যকে ঘিরে জনগণের প্রতিক্রিয়া ঠিক নাগরিক নয়, বরং সরাসরি কমেন্ট বক্স নির্ভর আন্দোলন। জনপ্রিয় নিউজপোর্টালগুলোর নিচে মন্তব্যে ভরে গেছে “😂”, “হাহা”, এবং “ভাই, আপনারাই তো কন্টেন্ট!” টাইপ প্রতিক্রিয়ায়। রাজনৈতিক হতাশা এখন মিমে বিক্রি হচ্ছে, আর উপহাসই দায়িত্ববোধের বিকল্প।

একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন, “৬৯ বনাম ৩১ এখন মনে হয় ক্রিকেট স্কোর, শুধু এখানে বোলার জনগণ আর ব্যাটসম্যান সচিব।” আরেকজন লিখেছেন, “আমরা হাহা রিঅ্যাকশন দিছি, মানে সন্তুষ্টির সীমা পার কইরা গেছি!”

অবস্থার সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণে এক গবেষক বলেছেন, “বাংলাদেশে এখন ‘লাইক’ ও ‘হাহা’র মধ্যেই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত পরিমাপ।” অর্থাৎ, আপনি নাগরিক হলে ভোট দেন, কিন্তু ফেসবুক ইউজার হলে শুধু হাসেন।

দৃশ্যমানভাবে যাদের উদ্দেশে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—সেই ৩১% জনগণ—তারা এখন মন্তব্য করছেন: “আমরাই না অসন্তুষ্ট, এখন যুদ্ধও আমাদের!” কেউ আবার লিখছে, “চিন্তা করবেন না, আমরা আত্মরক্ষার্থে শুধু মেমে ব্যবহার করব।”

সব মিলিয়ে, রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক রিপোর্টের চেয়ে স্থানীয় রিঅ্যাকশনই বেশি বিশ্বস্ত। কারণ বাস্তবতা এতটাই উল্টো যে, জনগণের হাসিই এখন সর্বোচ্চ প্রতিবাদ।

শেষ কথায় এক তরুণ ফেসবুকার লিখেছে ঠিকই,

“যখন সরকার হাসে না, আর জনগণ শুধু হাহা দেয়, তখন দেশ সত্যি এক মজার জায়গায় পৌঁছে গেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *