কান ধরে টেবিলে দাঁড়িয়ে ভোট চাইছেন আমির হামজা
কান ধরে টেবিলে দাঁড়িয়ে ভোট চাওয়া — আমির হামজার নতুন ‘তওবা প্রচারণা’তে গোটা দেশ হাসছে
বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে প্রতিদিন একেকটি দৃশ্য যেন আগের দিনের চেয়েও নাটকীয় হয়ে উঠছে। এবার সেই মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্র, জামায়াতের প্রার্থী ও উপদেশবাগীশ বক্তা আমির হামজা। তিনি এমন এক অভিনব প্রচারণা কৌশল চালু করেছেন, যা বলে দেয়—রাজনীতি আর বক্তৃতা নয়, এখন শারীরিক কসরতেরও জায়গা আছে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে।
গতকাল বরিশালের এক ইউনিয়নে ভোট চাইতে গিয়ে আমির হামজা হঠাৎই টেবিলের ওপর উঠে গেলেন। তারপর নিজের দুই কান দু’ হাতে ধরে ঘোষণা দিলেন—
“ভুল করেছি, অনেক কিছুই বলেছি, এবার আমাকে একবার ভোট দিয়া তওবার সুযোগ দেন!”
দৃশ্য দেখে প্রথমে উপস্থিত জনতা ভেবেছিল তিনি হয়তো কোনো ধর্মীয় নাটক মঞ্চস্থ করছেন। কিন্তু না—এটাই ছিল তাঁর বাস্তব প্রচারণা। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, ক্যাপশন ঘুরে: “রাজনীতি যখন জিমন্যাস্টিক, প্রচারণা তখন কান-ন্যান্ডিনেশন!”
সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট বক্স এখন সরগরম। কেউ লিখেছে,
“আমির ভাই রাজনীতি না, শাস্তির ল্যাবরেটরি চালু করেছেন।”
আরেকজনের রসিকতা—“পরের ধাপে হয়ত উনি বলবেন, ভোট দিলে কানেই তাবিজ দেব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মধ্যে যেন বাংলার রাজনীতির মূল সংকট ধরা পড়ে—স্বাভাবিক বক্তব্যে মানুষ আর বিশ্বাস করে না, তাই রাজনীতিকেরা এখন হাস্যকর রীতিতেও আস্থা খুঁজছেন। এক অধ্যাপক ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে কে কতদূর কানে টান দিতে পারে।”
তার বিরোধীরাও ঘটনাটি নিয়ে আনন্দে টগবগ করছে। এক স্থানীয় কর্মী বলল,
“আমরা চাই উনি টেবিল থেকে নামার আগে প্রতিশ্রুতিও দিন—এই ভোটে হেরে গেলে কানও ফেরত দেবেন না!”
তবে হামজার শিবিরের দাবি, এটা তাঁর আত্মসমালোচনার চর্চা। জবাবে এক ব্যঙ্গবিদ লিখেছেন,
“ভোটের আগে এরা কান ধরে, ভোটের পরে জনগণ মাথা ধরে বসে।”
সব মিলিয়ে, দেশের ভোট রাজনীতি আজ এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে যেখানে কান ধরা, টেবিল ধরা, এমনকি মগধরা—সবই হতে পারে প্রচারণার উপায়।
এক ক্ষুদে ভোটার গভীরভাবে বলল,
“যদি কান ধরে ভোট চাইতেই হয়, তাহলে আমরা একদিন হাসতে হাসতে ভোট না দিয়েই কানে জল ঢেলে ফেলব।”

