হাসর সঙ্গী সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করছেন আমির হামজা
“আমাকে ভোট দিন, হাশরে আমার সঙ্গী হবেন”—আমির হামজার নতুন আখেরাত প্যাকেজে দেশজুড়ে হাসির বন্যা
বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন ধারা শুরু হয়েছে, আর এই ধারার স্রষ্টা জামায়াতের বিতর্কিত প্রার্থী আমির হামজা। দীর্ঘদিন ওয়াজ মাহফিলে “অদ্ভুত ও আবোলতাবোল ধর্মতত্ত্ব” পরিবেশন করে ইতিমধ্যেই যে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন, এবার তিনি সেই অভিজ্ঞতা ভোটের বাজারে পুরোদমে কাজে লাগাচ্ছেন।
তাঁর সাম্প্রতিক সভায় শোনা গেছে এমন ঐতিহাসিক ডাক—
“আমাকে ভোট দিলে হাশরের দিন আমার সাথে থাকতে পারবেন!”
অর্থাৎ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এখন শুধু সেতু, রাস্তা, বিদ্যুৎ নয়—পৌঁছে গেছে সরাসরি পারলৌকে। কেউ বলে, তিনি আসলে নতুন ‘সাবস্ক্রিপশন মডেল’ চালু করেছেন, নাম “হাশর সঙ্গী প্রিমিয়াম প্যাকেজ”। এতে ভোটাররা নাকি ভোটের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার পাবেন আমির হামজার চিরসঙ্গী তালিকায়।
সামাজিক মাধ্যমে এই খবর ছড়াতেই শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ ও মহা কৌতুক। কেউ লিখেছে,
“ভোট দিলে বিদ্যুৎ পাবো ভেবেছিলাম, এখন দেখছি হাশরের টিকিট পাচ্ছি—তাও লাইফটাইম সাবস্ক্রিপশন!”
আরেকজন মন্তব্য করেছে, “এই অফারটা হয়তো সীমিত সময়ের—ব্যালট বাক্সে নাম লেখানোর শেষ সুযোগ কিয়ামতের আগে!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে ধর্মকে ভোটের প্রচারণায় টেনে আনার পুরনো রেওয়াজকে হামজা শুধু আরও হাস্যকর করে তুলেছেন। এক সমাজবিজ্ঞানী মুচকি হেসে মন্তব্য করেন, “এ যেন রাজনীতি নয়, এশীয় ‘আখেরাত মার্কেটিং’। কেউ মাসিক প্যাকেজ বিক্রি করে ইন্টারনেট, তিনি বিক্রি করছেন অনন্তকালীন সহচরিতা।”
তার নির্বাচনী এলাকায় এখন “হাশর VIP” লেখা টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে, পোস্টারে লেখা—
“আজ ভোট দিন, কিয়ামতে কনফার্ম সিটিং!”
জনগণের প্রতিক্রিয়া বেশ স্পষ্ট—আরো বাস্তবপ্রতিশ্রুতি দরকার দেশের, স্বপ্ন নয় পরলোকের। চট্টগ্রামের এক চা বিক্রেতার কণ্ঠে তীব্র হতাশার রসিকতা, “ভাই, আমরা হাশরের আগে ভাত চাই, পরের সঙ্গ তো কবরেই দেখা হবে!”
অন্যদিকে কেউ কেউ বলছে, হামজার এই স্লোগান ভবিষ্যতের রাজনীতি বুঝতে সাহায্য করছে, কারণ এখন মনে হয় রাজনীতিবিদরা আর মন্ত্রণালয় নয়, পুরো আখেরাতের সিটও বরাদ্দ দিতে চান!
সব মিলিয়ে, আমির হামজা এবার ভোট রাজনীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যে, নির্বাচন কমিশন হয়তো শিগগিরই নতুন নীতিমালা জারি করবে—
“স্বর্গ অথবা কিয়ামত সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বিজ্ঞাপন হিসেবে গণ্য হবে না।”

