দীর্ঘদিন গবেষণা করে,শহর ও গ্রামের চাতাতো ভাইয়ের দেওয়া বানের পার্থক্য বের করেছেন আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানী কাজী ইব্রাহিম
দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে নীরব গবেষণা। কখনো গুলশানের ক্যাফেতে, কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো অন্ধকার ঝোপের আড়ালে। অবশেষে আজ আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানী, তান্ত্রিক-বৈজ্ঞানিক সমন্বয়বাদী গবেষক, এবং স্বঘোষিত “বানোলজিস্ট” কাজী ইব্রাহিম বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন:
“চাচাতো ভাই যখন শহরে বান দেয়, সেটা খাওয়ার বান।কিন্তু গ্রামে চাচাতো ভাই যখন বান দেয়, সেটা… সেটা আসলে বান।”
সাংবাদিকদের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে (যেটা আসলে ছিল একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চ) কাজী ইব্রাহিম আরও বিস্তারিত জানিয়েছেন।“আমি ২০১০ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। ঢাকায় আমার চাচাতো ভাই রাকিব যখন বলে, ‘ভাই বান খাবি?’ তখন সে আমাকে ক্রিম বান অথবা চকলেট বান এগিয়ে দেয়। আমি খুশিমনে খেয়ে ফেলি। কিন্তু একই বছর কুমিল্লার গ্রামে আমার আরেক চাচাতো ভাই সোহেল যখন বলল, ‘ভাইয়া, বান লাগবো?’ আমি ভেবেছিলাম সেও খাওয়ার বান দেবে। কিন্তু ৭ দিন পর্যন্ত আমার পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা, আর রাতে স্বপ্নে একটা কালো বিড়াল আমাকে তাড়া করছিল। তখনই বুঝলাম—এই বান আর এই বান এক না!”
তিনি আরও জানান, গবেষণার জন্য তিনি নিজের শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন। মোট ৪৭ বার গ্রামের চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে “বান” নিয়েছেন এবং ৪৫ বারই নাকি তাঁর উপর “অদৃশ্য প্রভাব” পড়েছে। একবার তো নাকি পুরো একমাস তাঁর ফোনের ক্যামেরা শুধু উল্টো ছবি তুলছিল।
কাজী ইব্রাহিমের গবেষণা পত্রের (যেটা তিনি নিজেই লিখেছেন এবং নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন) প্রধান সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. শহরের বানে ক্যালোরি থাকে, গ্রামের বানে কালো জাদু।
২. শহরের বান খেলে ওজন বাড়ে, গ্রামের বান খেলে (বা নিলে) প্রেমিকা চলে যায়।
৩. শহরের বানের মেয়াদ ২-৩ দিন, গ্রামের বানের মেয়াদ ৭ বছর।
৪. শহরের বান ফ্রিজে রাখা যায়, গ্রামের বান লবণ দিয়ে ঝেড়ে ফেলতে হয়।
তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন—এখন থেকে গ্রামে কেউ যদি “বান” বলে, তাকে আগে লিখিত দিতে হবে সেটা খাওয়ার বান না “অন্য বান”। নইলে দেশে বিভ্রান্তি বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “স্যার, আপনি নিজে এখনো কারো বান নেন?”
কাজী ইব্রাহিম একটু হেসে বললেন, “না ভাই, আমি এখন শুধু বিস্কুট খাই। বিস্কুটে কোনো ঝামেলা নাই।”
গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের অপেক্ষায়। তবে ফেসবুক-ইউটিউবে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ একমত যে, “আসলে এইটা হইতেই পারে!”

