“ডিসেম্বর ইজ কলিং” ভিডিও বানানোর জন্য আবিদের ডাকে সাড়া দিলেন না কেউ

“ডিসেম্বর ইজ কলিং” ভিডিও বানানোর জন্য আবিদের ডাকে সাড়া দিলেন না কেউ

“ডিসেম্বর ইজ কলিং”—ঢাবির আবিদের একলা ডাক, জনতা ব্যস্ত নিজের নোটিফিকেশনে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বড়ই নাট্যময়, কিন্তু এবার সেই মঞ্চে প্রবেশ করলেন এক নতুন নায়ক—ছাত্রদলের আবিদ। যিনি ক’দিন আগেই ভাইরাল হয়েছিলেন তাঁর ঝাঁঝালো ভিডিও দিয়ে:

“নভেম্বর ইজ কলিং, তারেক জিয়া ইজ কামিং!”

ভিডিওটি ছিল দারুণ নাটকীয়। কানে হেডফোন, চোখে দৃঢ়তা, কণ্ঠে সাসপেন্স— যেন মুভি ট্রেলারের ভয়েসওভার। অনেকেই ভেবেছিল, এবার বোধহয় সত্যিই নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, টেম্পারেচার বাড়ছে, ইতিহাস কিছুটা নড়ছে।

কিন্তু নভেম্বর পেরিয়ে গেল। ঠান্ডা পড়ল, খেজুর পাকা শুরু হলো, এমনকি নির্বাচনের পোস্টারও ঝুলে পড়তে শুরু করেছে—কিন্তু তারেক রহমান এলো না। মজার ব্যাপার, আবিদও এবার নতুন ভিডিও ছাড়লেন:

“ডিসেম্বর ইজ কলিং।”

দুর্ভাগ্য, কল গেলেও এবার কেউ ধরল না। না তারেক রহমান, না দল, না এমনকি ঢাবির ছাত্রাবাসের রুমমেটরাও। ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড হওয়ার পর দেখা গেল, এক ঘণ্টায় ১৭টা ভিউ—তার মধ্যে ৩টা আবার ফিডব্যাক “নিজেই রিপ্লে করে।”

সামাজিক মাধ্যমে শুরু হলো ঠাট্টার বন্যা। কেউ বলল, “তারেক ভাই হয়তো রোমিংয়ে আছেন, কল আসে, কিন্তু ধরেন না।” আরেকজন লিখল, “আবিদ এখন বুঝছে, নভেম্বর হয়তো কল করেছিল, কিন্তু সিগন্যাল ছিল ফুরিয়ে!”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা হাসিমুখে বলছেন, “বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি এখন পুরো টেলিকম মডেলে চলছে—ডাক আছে, প্যাকেজ আছে, কিন্তু কনেকশন ড্রপ।”

আবিদের সমর্থকরা অবশ্য বলছেন, “ভাই দ্বিধা করবেন না। ডিসেম্বর না ধরলেও, জানুয়ারি ধরবেই!” তবে নিরপেক্ষ দর্শকদের মত, “এই ছেলে রাজনীতি করছে নাকি মাসিক ক্যালেন্ডারের ট্রেলার বানাচ্ছে?”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এখন শোনা যায় নতুন এক জোক:

—“শুনছো, জানুয়ারি যদি না আসে?”

—“তাহলে ফেব্রুয়ারি ইজ কলিং, ভাই!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *