চাঁদ দেখলেই বিশেষ উত্তেজনা অনুভব করেন জামায়াত কূমিরা

চাঁদ দেখলেই বিশেষ উত্তেজনা অনুভব করেন জামায়াত কূমিরা

চাঁদ দেখলেই বেহুশ—জামায়াতের “চাঁদ ফেটিশ” এখন আকাশজুড়ে ব্যঙ্গের বিষয়

বাংলাদেশের রাজনীতি কখনও কখনও এত বেখাপ্পা নাটক হয়ে যায় যে মনে হয় বাস্তবতা নয়, এক টেলিভিশন প্যারোডি চলছে। আর সেই প্যারোডির সবচেয়ে উজ্জ্বল উপকরণ আজকাল একটাই—চাঁদ।

চাঁদ মানেই প্রেম, কবিতা, রাতের আবেগ—বাকি সবার জন্য। কিন্তু জামায়াতের কিছু অতিরিক্ত উৎসাহী সমর্থকের কাছে চাঁদ মানে রাজনৈতিক তন্দ্রা, আকাশের পানে তাকালেই “আত্মার সংযোগ” শুরু।

পুরনো গল্প মনে আছে নিশ্চয়? বছর খানেক আগেই খবর ছড়িয়েছিল, “চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে।” তখন থেকেই দেশের মানুষ মজার ছলে একে বলে “চাঁদ ফেটিশ সিনড্রোম”: কেউ চাঁদ দেখলেই মনে করেন সেখানে তাদের রাজনৈতিক দেবদূত লুকিয়ে বসে আছেন, ইসলামি পতাকার জ্যোৎস্নায় ভাসছেন, আর দেশের বাকি মানুষ বুঝতে পারে না।

পাকিস্তানের পতাকায় চাঁদ, তুরস্কের পতাকায় চাঁদ—তাতে নাকি বিশেষ রোমাঞ্চ অনুভব করেন এই শ্রেণি। ফেসবুকে কেউ গর্ব করে লিখেছে,

“চাঁদ দেখলে আমাদের রক্ত গরম হয়, কারণ ওটাই একাত্মতার প্রতীক।”

কেউ আবার মিম বানিয়েছে: “এক দৃষ্টিতে তাকাও চাঁদে—জামায়াতি শক্তি সক্রিয় হবে!”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবের চেয়ে বেশি মানসিক প্রতিরূপ। কারও কারও ধারণা, “যখন রাজনীতির আলো নিভে যায়, তখন মানুষ চাঁদের আলোয় নেতৃত্ব খোঁজে।”

সাধারণ মানুষ, অবশ্য, একটু অন্যরকম প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। এক রিকশাচালক বলল,

“ভাই, এদের চাঁদে নেতা লাগে, আমাদের তো ঘরে আলোই লাগে।”

আরেকজন দোকানদার হেসে বলল,

“আগে ভাবতাম ওরা রাত জেগে নামাজ পড়ে, এখন দেখি চাঁদের সঙ্গে সিগন্যাল ধরে।”

মিমের দেশ বাংলাদেশে এখন চাঁদও রাজনৈতিক প্রতীকের নতুন আস্তানা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ—#ChandFetish। নিচে কেউ লিখছে, “NASA-র কোনো স্টেটমেন্ট লাগবে না, জামায়াতের দোয়া যথেষ্ট।”

রাজনীতির বিদূষক বাস্তবতায় এমন দৃশ্য আসলেই এক শিক্ষা—

যেখানে জনগণ দিন কাটায় মাটিতে,

আর কিছু দল খোঁজে দিকনির্দেশনা—চাঁদের খোঁজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *