“আমার পূর্বপুরুষ ভুটানি গরুর বংশধর” – জাতীয় সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম
ভুটানের গরুর বংশধর এবং রাষ্ট্রীয় সাক্ষাৎ
আজ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে হঠাৎ এক অনির্ধারিত বিস্ময়ের মুহূর্ত। চা, বিস্কুট, আর নানা কৌতূহলী চোখের মাঝখানে সাহসী কণ্ঠে ঘোষণা এল—“আমার পূর্বপুরুষ ভুটানের গরু ছিলেন।” বাক্যটি এমন জোরে উচ্চারিত যে পাশের চা–ওয়ালা কাপ থেকে চিনি নাড়িয়ে থেমে গেলেন, নিরাপত্তারক্ষীও খানিকক্ষণ ভাবলেন—এটা কি প্রাণীবিদ্যার নতুন অধ্যায়, নাকি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক স্লোগান?
বক্তা নাহিদ ইসলাম, যিনি নিজেকে চিনিয়েছেন এক অদ্ভুত নির্লজ্জ সততায়। তাঁর যুক্তি—“গরুর মধ্যে ছিল শান্তি, সহনশীলতা, আর ঘাসভিত্তিক নীতি; আমরা মানুষরা এখন সে সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি।” শুনে প্রধানমন্ত্রী নাকি কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন, যেন ভাবছেন—রাষ্ট্র চালানোও যদি রুমিন্যান্টদের মতো চারবার চিবোনো নীতিতে চলত, তাহলে হয়তো এই দেশে সিদ্ধান্তগুলো অন্তত হজমযোগ্য হত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আগুন লেগেছে। কেউ লিখছে, “নাহিদই আসল ‘মাদার কাওল্যান্ড’ আন্দোলনের জনক।” আবার কেউ মনে করছে, এই বক্তব্য জাতিসংঘে ‘প্রাণিকুল কূটনীতি’র নতুন সম্ভাবনা খুলে দিতে পারে। এক পরিবেশবাদী মন্তব্য করেছেন, “গরুর মতো সহনশীল হতে পারলে এ দেশ বাঁচত—শুধু খামারে নয়, সংসদেও।”
তবে এক প্রবীণ অধিকারকর্মী মুখ টিপে বললেন, “গরুর ভেতরে যতই সম্মান থাক, গরুর পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সেটাও ব্যঙ্গ হয়ে যায়, কারণ মানুষ হিসেবে দাঁড়িয়ে গরুর গুণের দাবি করা মানেই নিজের মানবগুণে আস্থা হারানো।”
নাহিদ ইসলাম অবশ্য তাতে টলেননি। বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বললেন, “ভুটানের গরুরা খুব শান্ত, আমিও শান্তি চাই।” এটা শুনে এক সাংবাদিক হেসে ফেললেন—“তাহলে পরের সাক্ষাতে দুধ নিয়ে আসবেন, নাহিদ ভাই!”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক—দেশের সিংহভাগ মানুষ এখন নিজেদের ভেতরের কোন প্রাণীর উত্তরসূরি তা খুঁজতে ব্যস্ত। কেউ খরগোশ, কেউ বাঘ, আবার কেউ নিছক হাঁস বলে দাবি করছে। জাতি পরিচয়ের এই চারণভূমিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে—বুদ্ধিমানরাই এখন গরুর মতো সরল হতে চায়, আর গরুরা নিশ্চয় ভাবছে, মানুষ হবার এমন জ্বালা তাদের কপালে পড়েনি বলে ধন্য।

