গবেষকরা মনে করছে এখন চাইলে বাংলালিংকের কাস্টমাররাও বলতে পারবে আগেই ভালো ছিলাম
বাংলালিংকের নতুন লোগো উন্মোচন হওয়ার পর থেকেই দেশের টেলিকম বাজারে যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তাতে এবার যোগ হলো গ্রাহকদের হতাশার সুর। নতুন লোগোর সাথে বাইজুসের লোগোর অবিশ্বাস্য সাদৃশ্য নিয়ে তোলপাড় চলার মধ্যেই, গবেষকদের একাংশ মনে করছেন, এখন চাইলে বাংলালিংকের সাধারণ কাস্টমাররাও বলতে পারে—”আগেই ভালো ছিলাম!” গবেষকদের (অবশ্যই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মতে, এই মন্তব্যের নেপথ্যে কেবল লোগোর নকশা নকলের বিষয়টিই নেই, এর সাথে মিশে আছে গ্রাহকদের বহুদিনের জমে থাকা নানা অসন্তোষ। গ্রাহকদের মতে, পুরোনো লোগোটি ছিল তাদের কাছে একটি পরিচিত প্রতীক, কিন্তু নতুন লোগোটি অন্য একটি ভারতীয় সংস্থার লোগোর সাথে হুবহু মিলে যাওয়ায় বাংলালিংকের নিজস্ব পরিচয় ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এর পাশাপাশি, গ্রাহকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, লোগো পাল্টানোর চেয়ে নেটওয়ার্কের মান বা ডাটা সার্ভিসে উন্নতি আনা আরও বেশি জরুরি ছিল। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, “লোগো তো পাল্টালো, কিন্তু কল ড্রপ কি কমল?” এই নকলের অভিযোগ আসায় ব্র্যান্ডটির সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা গ্রাহকের আস্থা দুর্বল করতে পারে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ হলো, সাধারণ মানুষ সাধারণত ব্র্যান্ডের লোগো নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান না। কিন্তু যখন লোগো পরিবর্তনের কারণে বিদ্রূপের শিকার হতে হয় এবং ব্র্যান্ডের উপর নকলের কালিমা লাগে, তখন গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা জন্ম নেয়। একজন গবেষকের মন্তব্য অনুযায়ী, “লোগোর এই বিষয়টি প্রকারান্তরে গ্রাহকদের সেই পুরোনো অভিযোগগুলোকেই উসকে দিয়েছে—যেখানে তারা হয়তো কম মূল্যে ভালো নেটওয়ার্ক, নিরবচ্ছিন্ন সেবা বা আরও উন্নত কাস্টমার সার্ভিসের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাই, তাদের মুখে ‘আগেই ভালো ছিলাম’ উক্তিটি আসলে কেবল পুরোনো লোগোর প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং পুরোনো, পরিচিত এবং ঝামেলামুক্ত দিনের প্রতি একপ্রকার আকাঙ্ক্ষা।” এই পরিস্থিতি টেলিকম কোম্পানিটির জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। কেবল লোগো পরিবর্তন নয়, এবার হয়তো গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি ফিরিয়ে আনার দিকেও বাংলালিংককে মনোযোগ দিতে হবে—তা না হলে এই “আগেই ভালো ছিলাম” বাক্যটি হয়তো আরও জোরদার হয়ে উঠবে।

