জুবাইদা রহমানের কোনো সংবাদ প্রকাশ করবে না বালের কণ্ঠ
“জুবাইদা রহমানের কোনো সংবাদ প্রকাশ করবে না বালের কণ্ঠ”—মিডিয়া সার্কাসের বিপরীতে নীরবতার বিপ্লব
বাংলাদেশের সংবাদজগৎ এখন যেন এমন এক চৌপাটে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে খবর নয়, খবরের দৃশ্যই খবর। গতকাল থেকে দেশজুড়ে চলছে এক অদ্ভুত সংবাদ-ম্যারাথন—“জুবাইদা রহমান কোথায়?”
পত্রিকার পাতা আর নিউজ চ্যানেলের স্ক্রিন ভরে গেছে এক অলৌকিক লাইভ টিকারে:
“জুবাইদা প্লেন থেকে নামলেন,”
“জুবাইদা দরজায় পা রাখলেন,”
“জুবাইদা গাড়িতে উঠলেন,”
“জুবাইদা হাসপাতালের সামনে বাতাসে তাকালেন।”
প্রতি দুই মিনিটের ব্যবধানে নতুন “ব্রেকিং নিউজ”, এমন যেন পুরো জাতি তাঁর পদক্ষেপের স্টেপ-বাই-স্টেপ আপডেট নেওয়া ছাড়া নিঃশ্বাস ফেলবেই না।
এই প্রেক্ষাপটে, বালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় বোর্ড ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—
“আমরা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে রক্ষা করব,
তাই জুবাইদা রহমান সংক্রান্ত কোনো খবরই আমরা প্রকাশ করব না!”
অফিসে ঘোষণাটি শোনামাত্র সাংবাদিকরা হাততালি দিয়েছে যেন যুদ্ধের ঘোষণা পড়া হলো। আর পাঠকেরাও সামাজিক মাধ্যমে হেসে মন্তব্য করছে,
“অবশেষে কেউ সাহস করে ‘নো নিউজ ইজ গুড নিউজ’–এর পুরস্কার কিনে নিল।”
এক সংবাদ বিশ্লেষক তির্যকস্বরে বলেন,
“বাংলাদেশে পত্রিকাগুলো এখন মানুষ নয়, পদক্ষেপের কভারেজ দিচ্ছে। আজ নামলেন, কাল হাঁটবেন, পরশু হাই তুলবেন—সবই খবর। সংবাদের মান এত নিচে গেছে যে, সেলফি তোলাও এখন প্রেস ব্রিফিং।”
একজন পাঠক মজার ছলে লিখেছেন,
“কালের কণ্ঠ যদি জুবাইদার নিশ্বাসের গতি মাপতেও রিয়েলটাইম আপডেট দিচ্ছে, তাহলে আমরা অন্তত শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারি বালের কণ্ঠ পড়েই!”
বালের কণ্ঠের সম্পাদক অবশ্য বিষয়টি ব্যঙ্গ না, ‘নীতি ঘোষণা’ হিসেবেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে—
“যে দেশে বস্তুনিষ্ঠতা মহার্ঘ বস্তু, সেখানে নিরবতা একমাত্র প্রতিরোধ।”
এডিটরিয়াল নীতিমালা এখন এমন
যত জনপ্রিয় নাম, তত নো নিউজ;
যত দৃশ্যমান নাটক, তত টোটাল ব্ল্যাকআউট।
সাংবাদিক সমাজে এই সিদ্ধান্তকে কেউ বলছে “সাংবাদিকতার উপবাস আন্দোলন”, কেউ বলছে “শান্ত প্রতিরোধের সাংবাদিকতা।”

