খালেদা জিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনতে গেলো উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম হামজা
খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনতে গেলো উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক কিছুই ঘটে যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যে নাটকীয়তা চলছে তা রীতিমতো এক মহাকাব্যিক রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘোষণা, প্রতিদিন নতুন নতুন জটিলতা, আর প্রতিদিন নতুন নতুন সমাধানের প্রস্তাব। সর্বশেষ যে খবরটি এসেছে তা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। জাহাজ যাচ্ছে প্লেন আনতে! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। নৌবাহিনীর দুই শক্তিশালী জাহাজ রুস্তম ও হামজা রওনা দিয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সকে উদ্ধার করতে।
প্রতিদিন সকালে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় আজকেই আসছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। দুপুরে আপডেট আসে কিছুক্ষণের মধ্যেই অবতরণ করবে। বিকেলে ব্রেকিং নিউজ চলে সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছাবে। কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চূড়ান্ত খবর আসে কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ আর আসছে না, আগামীকাল আসবে।
এই আসি আসি করে না আসার খেলা চলছে এতদিন ধরে যে মানুষ এখন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খবর শুনলে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না।
সরকারি মুখপাত্ররা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাঁদের বক্তব্যগুলো এক অদ্ভুত সাহিত্যিক মান অর্জন করেছে। একদিন বলা হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুর থেকে রওনা দিয়েছে। পরদিন জানা গেলো আসলে এখনো রওনা দেয়নি, প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার পরদিন খবর এলো রওনা দিয়েছিলো কিন্তু আবার ফিরে গেছে। কেন ফিরে গেছে জানতে চাইলে উত্তর আসে কারিগরি ত্রুটি।
যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জাহাজ যাবে প্লেন আনতে অবশেষে সরকার এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিলো।
সিদ্ধান্ত হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুই শক্তিশালী জাহাজ বিএনএস রুস্তম ও বিএনএস হামজা রওনা দেবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সকে উদ্ধার করতে। কীভাবে একটি জাহাজ একটি প্লেনকে উদ্ধার করবে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানালেন, আমরা জলে স্থলে আকাশে সর্বত্র সক্ষম। প্লেন আসতে না পারলে জাহাজ তো আছে। জাহাজ গিয়ে প্লেনকে টেনে আনবে। এটাই আমাদের সামর্থ্য।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জাহাজ কীভাবে প্লেন আনবে। এই বিষয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হলে বিচিত্র উত্তর পাওয়া গেছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী কর্মকর্তা বললেন, এটা সম্ভব। প্লেন সমুদ্রে জরুরি অবতরণ করবে, তারপর জাহাজ তাকে তুলে নেবে। অনেক সিনেমায় দেখেছি এরকম।
আরেকজন বিমান প্রকৌশলী জানালেন, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এটা কীভাবে কাজ করবে। তবে যেহেতু সরকার বলেছে করবে, নিশ্চয়ই কোনো উপায় আছে। আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা হতে পারে।
ঢাকার কাওরান বাজারে সবজি বিক্রেতা করিম মিয়া বললেন, আমি তো কিছু বুঝি না। তবে সরকার যখন বলছে জাহাজ দিয়ে প্লেন আনবে, নিশ্চয়ই পারবে। সরকার তো মিথ্যা বলে না।
মিরপুরের গৃহবধূ রহিমা বেগম জানালেন, আমার বাড়িওয়ালাও বলে প্রতি মাসে ভাড়া কমাবে। তিন বছর হয়ে গেলো, এখনো কমায়নি। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খবর শুনলে আমার বাড়িওয়ালার কথা মনে পড়ে।
গুলশানের এক তরুণ উদ্যোক্তা বললেন, আমি মনে করি এটা একটা নতুন স্টার্টআপ আইডিয়া হতে পারে। সি এয়ার রেসকিউ সার্ভিস। বিনিয়োগকারী খুঁজছি।
সূত্র জানাচ্ছে, জাহাজ দিয়ে প্লেন আনার এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরো বিচিত্র পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। শোনা যাচ্ছে হেলিকপ্টার দিয়ে ট্রেন আনা, রিকশা দিয়ে জাহাজ টানা এবং গরুর গাড়ি দিয়ে রকেট উৎক্ষেপণের মতো প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে।

