স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন খালেদা জিয়া
স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন খালেদা জিয়া—দেশে এখন রোগী আর উপদেষ্টা দুজনই পর্যবেক্ষণে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায় যোগ হলো। যিনি নিজে ছিলেন আইসিইউতে, এবার তিনিই গেলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দেখতে! ঘটনাটি এতটাই অবাস্তব যে শয্যাশায়ী যুক্তিও এখন জ্বরজরিত হয়ে পড়েছে।
খালেদা জিয়া গত দশ দিন ধরে হাসপাতালে, কখনও লাইফ সাপোর্টে, কখনও “স্থিতিশীল কিন্তু সমালোচনামূলক”—এই দুই বাক্যের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলেন। আর সেই সময়েই দেশের তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজেই শারীরিক ও মানসিক ‘দুর্বলতা’তে ভুগে পড়েছেন। তাঁর কর্মকাণ্ড এতটাই দুর্বোধ্য যে চিকিৎসকরা নাকি এখনও রোগ নির্ণয়ের আগে রাজনীতি পর্যালোচনা করছেন।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, “উনি মাঝে মাঝে প্রেস ব্রিফিং করতেই হৃৎস্পন্দনে শব্দ ওঠে—তার মানে হয় কথা বেশি, নয় দায়িত্ব বেশি।”
খালেদা জিয়া, যিনি এতদিন যাবৎ নিজেই হাসপাতালের বাতাসের সঙ্গে বেশি পরিচিত, এবার নাকি বললেন,
“চলুন দেখি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মানুষ অন্তত বেঁচে আছেন কি না।”
ফলাফল—দেশের সবচেয়ে আলোচিত ‘রোগী’ এখন অন্য এক ‘উপদেষ্টা রোগী’কে দেখতে গেলেন। সামাজিক মাধ্যমে সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ল নতুন তত্ত্ব—“রোগী দেখতে রোগীর যাত্রা—বাংলাদেশের নতুন স্বাস্থ্য সূচক।”
কেউ ব্যঙ্গ করে লিখেছে, “দেশে এখন এমন হেলথ সিস্টেম, যেখানে অসুস্থতাই যোগ্যতা।” আবার অন্য মন্তব্য—“স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এদেশে রোগ প্রতিরোধ করেন না, বরং রোগ উৎপাদনে অবদান রাখেন।”
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নির্ধারণই এখন জাতীয় ধাঁধা। কেউ কোন মন্ত্রণালয়ের, তা আন্দাজ করার চেষ্টা করাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সমান ক্লান্তিকর। এক রাজনীতি পর্যবেক্ষক হেসে বললেন,
“দেশে এখন সবাই উপদেষ্টা, কিন্তু কেউ উপদেশ দেয় না। বরং নিজেই চিকিৎসাধীন।”
রাজনীতির এই অদ্ভুত চিত্র দেখে এক চা দোকানি বলল,
“আগে মন্ত্রী অসুস্থ হলে উপদেষ্টা যেতেন দেখে, এখন উপদেষ্টা অসুস্থ হলে নেত্রী যান—এই দেশে সম্পর্কের ভরসা শুধু বেডের নম্বর।”
সবশেষে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ এখন এমন এক যুগে ঢুকে পড়েছে যেখানে রাজনৈতিক সুস্থতা মাপা হয় অক্সিজেন মাস্কে, আর প্রশাসনিক যোগ্যতা নির্ধারিত হয় প্রেসার মেশিনে।

