নিজেকে লিঙ্গ বিহীন সিংহে দাবি করলেন জামায়াতের শাহজাহান
“আমি লিঙ্গবিহীন সিংহ!”—জামায়াতের শাহজাহানের দার্শনিক গর্জনে বিভ্রান্ত ভোটাররা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটেছে। দল পরিচিত, জামায়াত; আর নেতা—শাহজাহান, যিনি গত জুলাই দাঙ্গার সময় থেকেই নিজের জোরে বারবার আলোচনায় এসেছেন। কিন্তু এবার তিনি এমন এক পরিচয়ে নিজেকে ঘোষণা করেছেন যা শোনামাত্রই জনতা হতবাক—
“আমি লিঙ্গবিহীন সিংহ!”
এই ঘোষণাটি তিনি দিয়েছেন তাঁর সর্বশেষ নির্বাচনী বক্তৃতায়। জোর কণ্ঠে বললেন—
“আমাকে কেউ পুরুষ বলুক বা নারী বলুক, আমি তার ওপরে! আমি লিঙ্গবিহীন সাহসের প্রতীক—রাজনীতির সিংহ!”
বক্তৃতা শেষ হতে না হতেই চারদিকে গুঞ্জন। কেউ ভেবেছে এটা নতুন কোনো ধর্মতত্ত্ব, কেউ আবার ধারণা করেছে, বক্তৃতার খসড়ায় ভুল লাইনে দাগ দেওয়া পড়েছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন স্বঘোষিত পরিচয় আগে কেউ সাহস করে দেননি।
ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া উল্লাসে ফেটে পড়েছে। কেউ লিখছে, “শাহজাহান ভাই সত্যিকারের জেন্ডার নিউট্রাল না হলেও জেন্ডার নিউট্রাল বক্তা।” আরেকজনের তীর্যক কথা, “তিনি না পুরুষ, না নারী—তিনি এখন ফুলটাইম মিম!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বিষয়টিকে দেখছেন একাধারে দার্শনিক উন্মাদনা, অন্যদিকে এলোমেলো আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে। এক বিশ্লেষক মন্তব্য করলেন,
“জামায়াত এতদিন ধরে জনগণের দৃষ্টিতে পুরোনো ভাবধারা নিয়ে টিকে ছিল। শাহজাহান সাহেব হয়তো ভাবছেন—‘আমার যদি নতুন দর্শন আসে, ভোটও হয়তো ইনক্লুসিভ হবে।’”
দলের ভেতরেও দেখা দিয়েছে সূক্ষ্ম অস্বস্তি। এক নেতা গোপনে বললেন, “আমরা চেয়েছিলাম ঘোড়ার জোরে আন্দোলন, কিন্তু এখন শুনছি দলের সিংহ আছে—তাও আবার লিঙ্গবিহীন!”
ফেসবুক ও টিকটক ভরে গেছে রসাত্মক ভিডিওতে। কেউ সিংহের গর্জন চালিয়ে বলছে, “এই সিংহের ডাকে শুধু বাতাস উত্তর দেয়।” অন্যরা বলছে, “এ যেন এমন এক রাজনীতি যেখানে পরিণতি নেই, কেবল নাটকীয়তা।”
জনতা অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় যথেষ্ট প্রখর। এক চা দোকানি ভাষায় সোজা কথা বললেন—
“আমরা চেয়েছিলাম সাহসী নেতা, এখন দেখি সিংহ এসেছে, কিন্তু কামড়ায় না।”
সব মিলিয়ে, শাহজাহানের বক্তব্য রাজনৈতিক চেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক—এ যেন রাজনীতিতে রূপক পুরাণের সংযোজন।
শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, এই “লিঙ্গবিহীন সিংহ” আসলে প্রতীক হয়ে দাঁড়াল বর্তমানের এক অদ্ভুত রাজনীতির—যেখানে পরিচয় স্পষ্ট নয়, বক্তব্য অস্পষ্ট, আর গর্জনেই শেষ হয় কর্ম।

