আমার জন্মের সাথে বাবার কোন সম্পর্ক দেখিনা – প্রেস সচিব
“আমার জন্মের সাথে বাবার কোনো সম্পর্ক দেখি না”—প্রেস সচিব সফিকুলের বক্তব্যে জাতি এখন জেনেটিক বিভ্রান্তিতে
বাংলাদেশের রাজনীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তি আর জীববিজ্ঞান মুখোমুখি সংঘাতে! এর নায়ক—রাষ্ট্রের এক মহামান্য মুখপাত্র, প্রেস সচিব সফিকুল। সম্প্রতি তিনি সাঙ্ঘাতিক দীপ্তি চৌধুরীর টক শো–তে উপস্থিত হয়ে এমন এক বাণী শুনিয়েছেন যে, দেশের অর্ধেক মানুষ স্তম্ভিত এবং বাকি অর্ধেক হেসে কুটিপাটি।
দীপ্তির প্রশ্ন ছিল নির্দোষ:
—“আপনি কি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্বীকার করেন?”
সফিকুলের উত্তরও প্রথমে শান্তভাবেই শুরু হয়, কিন্তু তারপর হঠাৎই দেশীয় যুক্তিবোধকে কাব্যরূপ দিয়ে ফেলেন—
“ধানমণ্ডি ৩২ এর সাথে আমি মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক দেখি না… ঠিক যেমন আমার জন্মের সঙ্গে আমার বাবার কোনও সম্পর্ক দেখি না।”
এই এক বাক্যেই থেমে গেল যুক্তি, জেগে উঠল জনতা।
সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ঝড় বইতে লাগল। কেউ লিখল,
“বিজ্ঞান বইয়ের পাতায় নতুন অধ্যায়—স্বয়ংঘটিত জন্মতত্ত্ব!”
আরেকজন বলল, “প্রেস ব্রিফিং না, প্যারেন্টিং থিওরি পড়াচ্ছেন!”
জনমতে এমন প্রতিক্রিয়া আগে কমই দেখা গেছে। এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা তীব্র ক্ষোভে বললেন,
“যে মানুষ নিজের উৎস অস্বীকার করে, সে ইতিহাসের নামও মুখে আনতে পারে না। মনে হয় উনি নিজের নামও ডিএনএ রিপোর্টে যাচাই করবেন!”
টেলিভিশন প্যানেলে আমজনতার আলোচনাই এখন নতুন—
“যখন রাজনীতিকরা নিজেদের পিতা–পুত্র সম্পর্ক মানেন না, তখন জনগণের সম্পর্ক রাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে কীভাবে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পরিস্থিতিতে খানিক হাস্য খুঁজে পেয়েছেন। একজন মন্তব্য করলেন,
“দেশে এখন এত ‘ইনডিপেনডেন্ট চিন্তাশক্তি’ তৈরি হয়েছে যে, কেউ স্বাধীনতার ইতিহাস মানে না, কেউ নিজের বংশপরিচয়।”
জনতার কৌতুক, অবশ্য, সরাসরি ও নির্দ্বিধায়। এক দোকানি বলছিল,
“যদি বাবার সম্পর্ক না থাকে, তাহলে জন্ম সার্টিফিকেটে কে সই দিছে ভাই?”
আসলে জনগণের হাসি ও ক্ষোভ—দুটোই একই কারণে:
কারণ এই বক্তব্যে তারা দেশের সাংস্কৃতিক সূত্রটাই হারাতে দেখছে। এখানে আর ইতিহাসের ধারাবাহিকতা নেই, আছে মুখের জোরে বাস্তবতা অস্বীকারের প্রতিযোগিতা।
এইভাবেই সফিকুলের সেই ছোট বাক্য আবার মনে করিয়ে দিল—
আমরা এখন এমন দেশে বাস করি,
যেখানে অস্বীকারই একমাত্র উত্তর,
আর যুক্তি শুধু সামাজিক মিডিয়ার কমেন্টে বেঁচে থাকে।

